সমুদ্র সৈকতে আউটডোর শুটিং করতে গিয়ে জনপ্রিয় টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর (Rahul Arunodoy Banerjee) অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে গভীর শোক ও সংশয়ের ছায়া নেমে এসেছে গোটা টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে (Tollywood Industry)। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উদ্বেগে সহকর্মী থেকে অনুরাগী সকলেই। সোমবার তাঁর ময়না তদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল।
হাসপাতাল সূত্রে প্রাথমিক ময়নাতদন্তের যে তথ্য সামনে এসেছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। চিকিৎসকদের মতে, রাহুল খুব অল্প সময় নয় বরং দীর্ঘ সময়—সম্ভবত এক ঘণ্টারও বেশি—সমুদ্রের জলে ডুবে ছিলেন। তাঁর ফুসফুসে বিপুল পরিমাণ বালি ও নোনা জল ঢুকে যায়, যার ফলে ফুসফুসের আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, খাদ্যনালিতেও বালি ও নোনাজলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বল্প সময় জলে ডুবে থাকলে শরীরে এত পরিমাণে জল বা বালি প্রবেশ করা সম্ভব নয়। তাই অনুমান করা হচ্ছে, দীর্ঘ সময় জলের তলায় আটকে থাকার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে ।
এদিকে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য রাহুলের দেহ থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর পাকস্থলীতে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ময়নাতদন্তের পর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিজয়গড়ের বাড়িতে। সেখানে পরিবারের সদস্য, সহকর্মী এবং অসংখ্য অনুরাগী ভিড় করেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। হাসপাতাল চত্বরেও বহু মানুষ এদিন জড়ো হয়ে প্রয়াত অভিনেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে। সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর তরফ থেকেও প্রয়াত অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। টলিপাড়ার বহু তারকা এবং ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন রাহুলের শেষযাত্রায়। ছিলেন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার ও ছেলে সহজ। যদিও এই শোকের পরিবেশে তিনি বন্ধু ও সংবাদমাধ্যমের সহকর্মীদের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন । এরপর ছেলেকে নিয়ে শ্মশানে পৌঁছন প্রিয়াঙ্কা।
অভিনেতার এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড উত্তর খুঁজছে—এই মৃত্যু কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও কোনও অজানা কারণ?





