Header AD

রাহুলের মৃত্যুরহস্য ঘিরে স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস, মহিলা কমিশনের পদ ছাড়লেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

leena rahul

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর (Rahul Arunadoy Banerjee) মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে দানা বাঁধা একাধিক রহস্য। তালসারিতে অভিনেতার মর্মান্তিক মৃত্যুর ৭২ ঘণ্টায় পেরলেও ‘চুপ’ছিল প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্ট মোশন পিকচার্স! রাহুলের মৃত্যুর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ এবং ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হয়। শোনা যাচ্ছে আর্টিস্ট ফোরামকে সঙ্গে নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাও। এরই মধ্যে প্রযোজনা সংস্থার তরফে একটি বিস্তারিত বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তারা একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন ম্যাজিক মোমেন্টের অন্যতম কর্ণধার তথা পরিচালক-লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay)। রাজ্যের মহিলা কমিশনের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের একাংশে প্রকাশিত ‘৪০ মিনিট জলের তলায় থাকা’-র দাবি সঠিক নয়। প্রাথমিক তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রাহুলকে যখন জল থেকে তোলা হয়, তখন তিনি জীবিত ছিলেন এবং কথা বলার চেষ্টাও করছিলেন। দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে কোনও চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা যায়নি। সংস্থার মতে, ওই সময় সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। পরে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংস্থাটি শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি, রাহুলের পরিবার, বন্ধু কিংবা ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর মনোনীত কোনও প্রতিনিধিকে এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শুটিংয়ের ফুটেজ, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের নথি এবং প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্রও তাদের সামনে তুলে ধরার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার জেরে বিতর্কে জড়ান সংস্থার অন্যতম কর্ণধার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। সংস্থা জানায়, তিনি মূলত লেখিকা ও ক্রিয়েটিভ হেড হিসেবে যুক্ত, কোনও প্রশাসনিক ভূমিকা তাঁর নেই। তবুও, পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে তাঁর পদ তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা এড়াতেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শুটিংয়ের অনুমতি সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়েও মুখ খুলেছে সংস্থা। তাদের দাবি, সমস্ত বৈধ নথি তারা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত এবং কোনও ধরনের গাফিলতি থাকলে তা খতিয়ে দেখতেও বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে সংস্থার ডিরেক্টর শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে ঘটনার দিন পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

শেষে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রাহুলের পরিবারের যেকোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং পুলিশি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।