মহারাষ্ট্রের নাসিকে অবস্থিত টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস (TCS)-এর একটি কেন্দ্রকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় সংস্থাটি বিপাকে পড়েছে। যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্তা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগের জেরে টিসিএস তাদের বিপিও বিভাগের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই চালু থাকবে।
এই ঘটনায় অন্তত নয়জন মহিলা কর্মী অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু সহকর্মী এবং উচ্চপদস্থ কর্মীরা তাঁদের উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। এমনকি ধর্মীয় আচার পালন করতেও বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী গিরিশ মহাজন জানান, কিছু কর্মী পরিকল্পিতভাবে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে বিয়ে ও ধর্মান্তরের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ধরনের কার্যকলাপের জন্য অর্থ প্রলোভনও দেওয়া হতো।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, ২০২১ সাল থেকে এই ধরনের ঘটনা চলছিল এবং মানবসম্পদ বিভাগে অভিযোগ জানিয়েও তেমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এই নির্যাতন অব্যাহত ছিল বলে দাবি তাঁদের।
পুলিশ ইতিমধ্যে এই ঘটনায় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি কয়েকজন মহিলা কর্মী এফআইআর দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সংস্থার একাধিক পদমর্যাদার কর্মী রয়েছেন। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম শীর্ষ তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।





