এসআইআর (SIR in Bengal) -এর শুনানির নামে হয়রানির অভিযোগে মালদহের (Maldah) পর এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর দিনাজপুর (North Dinajpur)। বুধবার ফরাক্কা বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাত পেরিয়ে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল চাকুলিয়া ব্লকের কাহাটা এলাকা। প্রথমে বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালায় ক্ষিপ্ত জনতা। পরবর্তীতে বিডিও অফিসের সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পাশাপাশি পথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এসআইআর শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে বারবার বিডিও অফিসে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রতিবাদে এ দিন সকাল থেকেই চাকুলিয়ার কাহাটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিডিও অফিসের অদূরে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবরোধ তুলতে ইসলামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁদের অভিযোগ, সেই সময় বিক্ষোভকারীরা মারমুখী হয়ে ওঠেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। সেই হামলায় মাথা ফেটে যায় ইসলামপুর থানার আইসির। এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় চাকুলিয়া থানার পুলিশ বাহিনীও। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতার সামনে কার্যত অসহায় অবস্থায় পড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় রায়গঞ্জ-সহ আশপাশের একাধিক থানায়। পুলিশের উপর হামলার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা বিডিও অফিসেও ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তছনছ করে দেওয়া হয় অফিসের আসবাবপত্র। শুধু তাই নয়, রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ জোরদার করা হয়। এর জেরে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেও দুপুর পর্যন্ত অবরোধ চলতে থাকে। এই আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে এই শুনানি নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, অকারণে বারবার শুনানিতে ডেকে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। কাহাটার পাশাপাশি বেহরিয়া ও শিরসী ভুইধর এলাকাতেও একই দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
চাকুলিয়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়, সংগঠিতভাবে পুলিশ প্রশাসনের উপর যে হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দ্রুত হামলাকারীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তা জানানো যেত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনও মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্ব চলাকালীন বুধবার ফরাক্কায় বিডিও অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসআইআরের নাম করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে চলে বিক্ষোভ হয়। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুনানির জন্য আসা মানুষজন প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শুনানিতে হাজির হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদেরকে নথি জমা নেওয়ার কোনও প্রাপ্তিস্বীকার করা হচ্ছে না। ফরাক্কার ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।





