Header AD

রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে গোপন আঁতাত! হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসিকে অনির্দিষ্টকাল সাসপেন্ড করল কমিশন

Hingalganj OC suspend

বাংলায় প্রথম দফার ভোট শেষ, আর তাতেই নজিরবিহীন সাড়া। ভোটদানের এই ছবি যেমন উৎসাহ দিচ্ছে, তেমনই সামনে এনে দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও। এবার দ্বিতীয় দফার আগে তাই একেবারে অ্যাকশন মোডে নির্বাচন কমিশন (ECI)। আগামী ২৯ এপ্রিল, বুধবার রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে ভোটের আগে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ তারা। দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল হিঙ্গলগঞ্জ থানার (Hingalganj) ওসির বিরুদ্ধে। গুরুতর অভিযোগের জেরে কড়া পদক্ষেপ করল কমিশন। শুক্রবার তাঁকে সাসপেনশনের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে কমিশন জানিয়ে দেয় এটা বহাল থাকবে অনির্দিষ্টকাল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে—ভোটে নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনও আপস নয়।

হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি সন্দীপ সরকারকে ঘিরে বিতর্ক চরমে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ে—যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, স্থানীয় অসাধু চক্র ও রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ। পাশাপাশি, অভিযোগ ওঠে যে তিনি নির্বাচন চলাকালীন সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। ২১ তারিখ কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়ে। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন।

ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে (Election In Bengal) হিঙ্গলগঞ্জ এবার রাজনীতির অন্যতম “হটস্পট”। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে সন্দেশখালি আন্দোলনের পরিচিত মুখ রেখা পাত্র এবং তৃণমূলের প্রার্থী স্থানীয় ভূমিকন্যা ঝরণা সর্দার—দু’জনের মুখোমুখি লড়াইকে কেন্দ্র করে এলাকায় ইতিমধ্যেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এই এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তা ও নজরদারির মাত্রাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে দিকেও প্রশাসন বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে যাতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা উত্তেজনা তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ করেছে বলে জানা যাচ্ছে। স্থানীয় থানার ওসিকে সাসপেন্ড করে সেখানে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।