দীর্ঘ দেড় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় আবার ফিরছে চিন। ২০১১ সালের পর আবার মেলায় ফিরতে চলেছে চিন। মঙ্গলবার পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের তরফে জানানো হয়েছে, এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য চিনের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণ তারা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। এর ফলে বহু বছর পর ময়দানের বইমেলায় ফের দেখা যাবে চিনের ঐতিহ্যবাহী লাল প্যাভিলিয়ন।চিনের প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি এবারের বইমেলার আর এক বড় আকর্ষণ ইউক্রেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটি প্রথমবার কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশ নিতে চলেছে।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানান, একেবারে শেষ মুহূর্তে চিন তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের উপস্থিতি এবারের মেলাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও বৈশ্বিক মাত্রা দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আগামী ২২ জানুয়ারি বিকেল চারটেয় সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গণে এবারের বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবছরের ফোকাল থিম কান্ট্রি হিসেবে থাকছে আর্জেন্টিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত সাহিত্যিক গোস্তাবো কানসোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্তিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনোর।
প্রতি বছরের মতো এবছরও উদ্বোধনী মঞ্চে গিল্ডের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে জীবনব্যাপী সাহিত্য সম্মান। এবারের সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক স্বপনময় চক্রবর্তী। সম্মানস্বরূপ তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হবে ২ লক্ষ টাকার পুরস্কার।
বিশ্বের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চিন ও ইউক্রেনের একসঙ্গে একই মেলাপ্রাঙ্গণে উপস্থিতি ইতিমধ্যেই বইপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে লাতিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে দুই প্রতিবেশী ও যুযুধান দেশের এই মেলায় অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা যে এক অনন্য আন্তর্জাতিক রূপ নিতে চলেছে, তা বলাই যায়।





