Header AD

সিঙ্গুরের প্রশাসনিক সভা থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী! থাকছে একাধিক কর্মসূচী

দু’দশক পর ভোটের আবহে আবারও রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল সিঙ্গুর। কয়েক দিন আগেই সেখানে সভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে শিল্প প্রসঙ্গে কোনও স্পষ্ট বার্তা না দেওয়ায় হতাশ সিঙ্গুরবাসীর একাংশ। সেই প্রেক্ষিতেই বুধবার সিঙ্গুরে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সভা থেকেই একাধিক সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস, সরকারি পরিষেবা প্রদান করবেন। এবং একই সঙ্গে উদ্বোধন করবেন বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান।

জানা যাচ্ছে, আজকের অনুষ্ঠান থেকেই এই বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চে উপস্থিত থাকার কথা ঘাটালের তিনবারের সাংসদ দীপক আধিকারী এবং রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী মানস ভুঁইঞার।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দীর্ঘদিন ধরেই ঘাটালবাসীর দাবি। একাধিকবার কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানো হলেও তা কার্যত আটকে ছিল বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্রের দিকে আর তাকিয়ে থাকতে হবে না—রাজ্য সরকারই এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্য বাজেটে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয় এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়। তবে এখন জানা যাচ্ছে ১৫০০ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে এই মাস্টার প্ল্যান।

প্রশাসনের দাবি, এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল, দাসপুর-১ ও ২, চন্দ্রকোনা-১ ও ২, কেশপুর এবং ডেবরা—এই সাতটি ব্লক এবং পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া-১, কোলাঘাট, ময়না ও তমলুক—মোট ১১টি ব্লকের মানুষ উপকৃত হবেন। পাশাপাশি ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভা এলাকাও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন বলে প্রশাসনের দাবি।

রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে আরও এক দিকে। সূত্রের খবর, এদিনের সভা থেকে শিল্প সংক্রান্ত কোনও বড় ঘোষণাও করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর সভার পর মুখ্যমন্ত্রী কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে বুধবার মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সভার রাজনৈতিক জবাব আসতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

এদিন সভা থেকে সিঙ্গুরের বারুইপাড়া পলতাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইন্দ্রখালি এলাকায় লক্ষাধিক উপভোক্তার হাতে রাজ্যের আবাসন প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’-র অনুমোদনপত্র তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের আগে সিঙ্গুর থেকেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ও একাধিক সরকারি উদ্যোগের বার্তা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে বড়সড় চাল দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।