সাতসকালে কলকাতায় ফের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন-এর তল্লাশি অভিযান। প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগে আজ, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে আলিপুর-সহ কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তল্লাশি চলেছে একটি ফিনান্স সংস্থার কর্ণধারের অফিস এবং বাড়িতেও। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউকো ব্যাঙ্কের তরফে দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলার তদন্তে এই তল্লাশি চলেছে। অভিযানের মূল কেন্দ্র হল কলকাতার আলিপুর এলাকা। এদিনও তল্লাশি অভিযানে বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার নামে এক হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। পূর্ব কলকাতার ফিনান্স সংস্থার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তারই ভিত্তিতে এদিন প্রথমে আলিপুরের নিউ রোডে এক অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সুনীল কানরিয়ার বাসভবন এবং অফিসে ঢুকে তল্লাশি শুরু করলেও সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি । এরপরই আলিপুর অ্যাভিনিউয়ের তাঁর আরও একটি বাড়িতে গিয়ে তদন্তকারীরা অভিযান চালিয়েছেন। কলকাতার আরও একাধিক স্থানে সমান্তরালভাবে তল্লাশি চলেছে বলে জানা যাচ্ছে।
সিবিআইয়ের সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, এই অভিযানটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রতারণার মামলার সঙ্গে জড়িত। ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ওই ফিনান্স সংস্থাটি এই টাকা তছরুপ করে। ওই ফিনান্স সংস্থা ও তারই একটি শাখা সংস্থার দুই অধিকর্তার বিরুদ্ধেই মূল অভিযোগ সিবিআইয়ের। সংস্থা দু’টির কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের। ওই সংস্থা দু’টির পক্ষ থেকে ঋণের জন্য আবেদন জানানো হয়। তার জন্য কিছু নথিও দেওয়া হয়। প্রথমে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা এবং পরে আরও ২৬০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতারণার অঙ্ক প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত আগে সিবিআই ছাড়াও অন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি করেছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তদন্তে নেমেছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই এই মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ওই ব্যাঙ্কটির দাবি, প্রথম দফায় একটি সংস্থার পক্ষ থেকে ৭৩০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরের দফায় ২৬০ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণ নেয় অন্য সংস্থাটি। ধাপে ধাপে আরও বেশ কিছু টাকা লোন নেওয়া হয়। ব্যাঙ্কের অভিযোগ, ঋণ নেওয়ার পরই চুক্তি লঙ্ঘন করতে থাকে দু’টি সংস্থা। কিস্তির টাকা সময়মতো ফেরত দেওয়া নিয়ে সমস্যা হয়। এই ব্যাপারে প্রাথমিক তদন্তের পর সিবিআইয়ের অভিযোগ, ওই দু’টি সংস্থা আরও ৬টি ব্যাঙ্ক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। কিন্তু পুরো টাকা ব্যাঙ্কগুলি ফেরত পায়নি। তবে এই এক হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ব্যাপারে গত ২০২৩ সালে ওই ব্যাঙ্কের দুই কর্তা সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এই ব্যাপারে হাই কোর্টও তদন্তের নির্দেশ দেয়। তারই ভিত্তিতে ওই দু’টি ফিনান্স সংস্থা ও তার কর্তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই মামলা দায়ের করে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও ব্যাঙ্ক প্রতারণা সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছিল সিবিআই৷ চলতি মাসের ১৫ জানুয়ারি কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। আলিপুর নিউ রোড, নিউটাউন-সহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই অভিযান চালানো হয়। এই মামলায় দু’জন ব্যবসায়ী, দু’টি সংস্থা এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক সরকারি কর্মচারীর নাম জড়িয়েছে বলে সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০(বি) ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই আজ, বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিবিআই।





