ভোটের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার পিংলা ও তমলুকের সভার পর হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের জনসভা থেকেও তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, “মধ্যরাতে ইডি-সিবিআই তল্লাশি চালাচ্ছে। বলছে তৃণমূল এজেন্টদের গ্রেপ্তার করো।” তার পরেই হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “এক জনকে গ্রেপ্তার করবেন, হাজার জন বেরোবে। হাজার জনকে গ্রেপ্তার করবেন, লক্ষ জন বেরোবে।” উল্লেখ্য তৃণমূলের ভোট কুশলী আইপ্যাকের অন্যতম কর্তা ভিনেশ চান্ডেলকে ইডির গ্রেপ্তারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ও পরে জগৎবল্লভপুর—দুই সভাতেই তিনি একই অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের বুথ এজেন্টরা যাতে ভোটকেন্দ্রে বসতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের ‘প্যারালাল মেশিনারি’তৈরি রাখার নির্দেশও দেন তিনি। বিশেষ করে মহিলাদের এগিয়ে এসে বুথ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য এর আগে,রবিবার, পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভা থেকেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ভোটের আগে বড়সড় গ্রেপ্তারির অভিযান চালানো হতে পারে। ভরা মঞ্চে তিনি দাবি করেন, “মধ্যরাত থেকেই অপারেশন শুরু হতে পারে—আমাদের কাছেও খবর আছে।” জগৎবল্লভপুরের সভায় মমতা আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি ভোট পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বাহিনীকে ব্যবহার করছে। তাঁর কথায়, “বুথে এজেন্ট দেওয়ার ক্ষমতা নেই, এজেন্সিকে দিয়ে পোস্টার মারছে আর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বলছে ছাপ্পা দিতে’।
পাশাপাশি তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনও বহিরাগত ভোট দিতে এলে কঠোরভাবে বাধা দিতে হবে এবং বিজেপি নেতৃত্বকে রাজনৈতিকভাবে জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, “আপনার নাম কেটে বহিরাগতেরা ভোট দিতে এলে ছেড়ে দেবেন? ভাল করে কান মুলে দেবেন। আর বিজেপি নেতাদের এমন শিক্ষা দেবেন, যাতে তাঁরা আর কখনও বাংলাকে চ্যালেঞ্জ করতে না-পারে।”





