Header AD
Trending

সোমেন-পুত্রকে প্রার্থী করায় কংগ্রেসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বিক্ষোভে উত্তপ্ত বিধান ভবন! জখম একাধিক কর্মী

Congress protest

রাজ্য কংগ্রেসে প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম অশান্তির ছবি সামনে এল বুধবার। দক্ষিণ কলকাতার বিধান ভবনে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনায় পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের আকার নেয়। এমনকি সংঘর্ষে এক কর্মীর মাথা ফেটে যায় এবং মহিলা কর্মীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।

বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট বণ্টনে দুর্নীতি হয়েছে এবং ‘টিকিট বিক্রি’ করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে দলীয় কার্যালয়ে পোস্টারও সাঁটানো হয়। বিশেষ করে বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের (Somen Mitra) পুত্র রোহন মিত্রকে প্রার্থী করা নিয়ে ক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আগে থেকেই ওই কেন্দ্রের জন্য জায়েদ হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু পরে তা বদলে দেওয়া হয় আর এর পেছনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার দুপুরে জায়েদ হোসেন নিজে বিধান ভবনে গিয়ে রোহন মিত্রের প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে আগেই প্রার্থী করার আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়েছে কেন, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এদিকে, দলের অন্দরে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা যে বড় আকার নিতে পারে—তার ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল বলে কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়। বিক্ষোভ চলাকালীন চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয় এবং একাধিক কর্মী আহত হন। উপস্থিত নেতারা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অসিত মিত্র এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন পরিস্থিতি তিনি আগে কখনও দেখেননি।

অন্যদিকে, যখন বিধান ভবনে উত্তেজনা চরমে, তখন বালিগঞ্জে নিজের নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন রোহন মিত্র। তিনি জানান, গোলমালের কথা শুনেছেন, তবে কারা এই ঘটনায় জড়িত তা তাঁর জানা নেই। দল তাঁকে যেখানে প্রার্থী করেছে, সেখানেই তিনি প্রচার চালাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস (Congress) ও সিপিএম (CPM) জোট করেও একটি আসনও জিততে পারেনি। শুধু আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui ISF) ভাঙড় থেকে জয়ী হন। বালিগঞ্জ কেন্দ্রেও কংগ্রেসের ফলাফল ছিল অত্যন্ত খারাপ, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।