দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও)-এর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধল রাজ্যে। ওই পোস্টে ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’ মজুত রাখার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) তীব্র আপত্তি জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের অপসারণ দাবি করেছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। সেখানে মূল অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার ডিইও অফিসের ফেসবুক হ্যান্ডেল থেকে একটি আপত্তিকর ও ভীতিপ্রদ পোস্ট করা হয়েছে। দলের দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটদানে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হলেও ব্যবহৃত ভাষা ছিল হুমকিমূলক এবং তা আদর্শ আচরণবিধির পরিপন্থী।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ১২৩(২) অনুযায়ী, কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার বা হস্তক্ষেপ দুর্নীতিমূলক কাজ হিসেবে গণ্য হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই পোস্ট সেই আইন লঙ্ঘন করেছে এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তাই অবিলম্বে ওই পোস্ট সরানো এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ এপ্রিল করা ওই পোস্টে— ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে বলা হলেও ‘গুণ্ডা-অপরাধীদের’ উদ্দেশে সতর্কবার্তার সুরে বলা হয়, নিজেদের সঙ্গে বার্নল ও বোরোলিন রাখার কথা, নইলে ‘উত্তাপে পুড়ে যাওয়ার’ ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এই ভাষাকেই কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি পালটা কটাক্ষ করে বলেন, “ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা বার্নল দিয়ে পোড়ানোর কথা বলছে, তাদের বলুন— আমরা বার্নল নয়, আইসক্রিম দেব।” এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে শাসকদল।





