বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে যাত্রীবোঝাই (Bangladesh Trajic bus accident) একটি বাস ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নদী থেকে অন্তত ২৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন মহিলা এবং ৫ জন শিশু রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও, সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিল। সেই সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জেটি থেকে সোজা পদ্মা নদীতে পড়ে যায় বাসটি। তবে কিছু যাত্রী আগেই বাস থেকে নেমে ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন, ফলে বাসে ঠিক কতজন ছিলেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয় এবং পরে ক্রেনের সাহায্যে নদীর প্রায় ৬০ ফুট গভীরতা থেকে বাসটি তোলা হয়। বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযান বৃহস্পতিবারও চলতে থাকে। এখনও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই ঘটনায় তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন। তাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা ১৬ বলা হলেও, পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযানে আরও দেহ উদ্ধার হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪-এ। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।





