Header AD

BJP-র সঙ্গে হাজার কোটির ‘গোপন সমঝোতা’র অভিযোগে বিতর্কে হুমায়ুন, ভিডিও ঘিরে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি

Humayun Kabir Video

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সদ্য প্রকাশিত একটি স্টিং ভিডিও। TMC-র দাবি, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) BJP-র সঙ্গে গোপন সমঝোতায় জড়িত। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হুমায়ুন বিজেপির কাছে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা চেয়েছেন এবং শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘আজ বাংলা ডিজিটাল’।

প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবীর বলছেন যে তিনি যে কোনও মূল্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) ক্ষমতা থেকে সরাতে চান। সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari) সঙ্গে যোগাযোগ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পরিচয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব (Mohun Jadav) ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himant Bishwasharma) সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ভিডিওতে হুমায়ুন বলছেন, “যে কোনও মূল্যে আমি মমতাকে সরাতে চাই। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেন দিল্লি নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবেন। আমার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) সঙ্গেও কথা হয়েছে।…প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই আমাকে বলা হয়, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে কথা বলতে।“

ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে প্রভাবিত করতে পারলে নির্বাচনে বড় সুবিধা পাবে বিজেপি। হুমায়ুনের কথোপকথনে ইঙ্গিত মিলেছে, তিনি বহু মুসলিম অধ্যুষিত আসনে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন এবং সেই লক্ষ্যেই বিপুল অর্থের প্রয়োজন। ভিডিওতে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যানের দাবি, “রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। শুভেন্দু স্বীকার করে নিয়েছেন কোনওভাবেই বিজেপির পক্ষে ১০০-১২০ আসনের বেশি পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু মমতার থেকে মুসলিম ভোট সরাতে পারলেই বিজেপি জিতবে।“

এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বি’ ও ‘সি’ টিম তৈরি করে ভোট ভাগের রাজনীতি করছে। তাঁর কথায়, “ভয়ঙ্কর বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বিপুল ভোটে জিতছেন বলে মানুষ নিশ্চিত, বাংলা নিশ্চিত, বিজেপি নিশ্চিত। সে জন্য কত রকম ভাবে ভোটে কারচুপি বিজেপি চালিয়ে যাচ্ছে, তার উদাহরণ এই ভিডিও।“

ফিরহাদ হাকিমও (Firhad Hakim Bobby) এই ঘটনার নিন্দা করে বলেন, ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ফিরহাদ বলেন, “বিজেপিSIR করেও বাংলাকে আটকাতে পারছে না, তাই এখন পিছনে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় আবেগকে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। একজন নেতা, যিনি পাল্টিবাজ, তাঁকে ধরে এবং হায়দরাবাদের এক নেতাকে ধরে নোংরা খেলা খেলছে। ভিডিও শুনলেন! কী ভাবে মুসলিম ধর্মকে বিক্রি করছে এই কুলাঙ্গার। মসজিদের নামে ভাবাবেগ সওদা করছে। হাজার কোটি টাকা চাইছে, ৩০০ কোটি টাকা আগাম চাইছে। আমরা যাঁরা মুসলিম সমাজের মানুষ, আমরা কি বুদ্ধিহীন, যে আমাদের ধর্মীয় আবেগ বিক্রি করে দেবে, তার পরেও আমরা চুপ করে থাকব?

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas) দাবি করেন, বিজেপি আগেই নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছে বলেই এই ধরনের কৌশল নিচ্ছে। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এসব রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে। অরূপ বলেন, “বিজেপি ভোটের আগেই হেরে গিয়েছে। বাংলার মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা মাকে বাঁচাতে হবে। ওরা ভেবেছিল বিহার, মহারাষ্ট্রে যে ভাবে জিতেছে, এখানেও পারবে। বাংলার মাটি অত সহজ না। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করুক বিজেপি, বাংলার মানুষ ওদের মেনে নেবে না।“

সমগ্র ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি সত্য প্রমাণিত হলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।