পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ (Gulf War) পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার সাতটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় তিনি এই ঘোষণা করেন। তাঁর মতে, দেশে সাড়ে নয় দিনের মতো জ্বালানি মজুত আছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং তার প্রভাব সামাল দিতে সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে প্রস্তুতি শুরু করেছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্র বুধবার বিকেল ৫টায় সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন না। বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অংশ নেবেন। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই বৈঠকে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি, সরবরাহ ব্যবস্থা, সার এবং প্রাকৃতিক গ্যাসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে কৌশল নির্ধারণের জন্য এই গোষ্ঠীগুলি কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলার সময়ও এ ধরনের ক্ষমতাসম্পন্ন গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছিল এবং সেগুলি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সব সম্ভাব্য উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত সমস্যা পর্যালোচনার জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় গোষ্ঠী নিয়মিত বৈঠক করছে।
কৃষিক্ষেত্রে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গত এক দশকে দেশে গড়ে ওঠা ইউরিয়া উৎপাদন কেন্দ্রগুলি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, সংকটের সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি বা মজুতদারি রোধে রাজ্য সরকারগুলিকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১১ বছরে দেশে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন কৌশলগত তেল মজুত গড়ে তোলা হয়েছে এবং আরও ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন সংরক্ষণ ক্ষমতা তৈরির কাজ চলছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভারত শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষপাতী। তাঁর মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে।





