চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবতীকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও তুলে দীর্ঘদিন ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ উঠল খাস কলকাতায়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে হেস্টিংস থানার পুলিশ।
অভিযোগ, বেসরকারি স্কুলে শিক্ষিকার চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে যুবতীর পরিচিত দুই ব্যক্তি তাঁকে একটি গাড়িতে তোলে। ইন্টারভিউয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হেস্টিংস এলাকায় একটি ফ্লাইওভারের নীচে গাড়ি থামিয়ে তাঁকে ঠান্ডা পানীয় দেওয়া হয়। সেই পানীয়তে মাদক মেশানো ছিল বলে অভিযোগ। পানীয় খাওয়ার পর যুবতী অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর গাড়ির মধ্যেই ওই দুই অভিযুক্ত তাঁকে ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনার ভিডিও তুলে রাখে।
পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা যুবতীকে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে। অভিযোগ, এই চাপের মুখে সম্প্রতি তাঁকে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে আরও তিন ব্যক্তি মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে। সেই ঘটনাও ভিডিও করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনার বিনিময়ে মূল অভিযুক্তরা ওই তিনজনের কাছ থেকে টাকা নেয়।
কলকাতায় ফেরার পথে যুবতীকে হুমকি দেওয়া হয়, তিনি যদি মুখ খোলেন তবে ভিডিও প্রকাশ করে তাঁকে অপমানজনকভাবে প্রচার করা হবে। শুধু তাই নয়, তাঁকে জোর করে যৌনপেশায় নামানোর জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
অবশেষে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবতী পরিবারের সদস্যদের সবকিছু জানান এবং হেস্টিংস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জোর করে মাদক প্রয়োগ, অপহরণ, গণধর্ষণ ও ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কলকাতা এবং অন্যজন হাওড়ার বাসিন্দা। এছাড়াও ঝাড়খণ্ডের তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে এবং ঘটনার ভিডিওগুলিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





