প্রথম দফার ভোট (West Bengal Assembly Election) আর মাত্র কয়েক দিনই বাকি। ঠিক এই সময়েই কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। নিয়ম অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ করা হয়েছে, যার ফলে বহু মানুষের নাম চূড়ান্ত (SIR Final List) তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
জানা গিয়েছে, বাদ পড়া প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের আবেদন খতিয়ে দেখতে ট্রাইবুনাল (Tribunal) সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রবিবার পরিদর্শনের পর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দল জানিয়েছে, সোমবার অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল থেকেই ট্রাইবুনালের কাজ শুরু হবে। সেই মতো সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ট্রাইবুনালে আবেদনের প্রক্রিয়া। একই দিনে এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ট্রাইবুনালে কেউ পুনরায় বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পেলে, তিনি আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না—সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীর্ষ আদালত জানাতে পারে।
ডায়মন্ড হারবার রোডের পাশে জোকায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন ভবনে ট্রাইবুনালের অস্থায়ী দপ্তর তৈরি হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সেখানে সমস্ত পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। মোট ২১টি ঘরে চলছে এই ট্রাইবুনালের কার্যক্রম।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা এখানে এসে জানতে পারবেন ঠিক কোন কারণে তাঁদের নাম বাতিল হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে তাঁরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে, ভুলবশত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নামগুলিও পুনর্বিবেচনা করা হবে।
এই আপিল ট্রাইবুনালে থাকছেন মোট ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। প্রত্যেকের সঙ্গে থাকছেন চার থেকে পাঁচজন সহকারী কর্মী, যারা নথি যাচাইয়ের কাজে সাহায্য করছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরও এই ট্রাইবুনালের অংশ হচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে চলতি মাসের শুরুতেই এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে রবিবার পরিদর্শনের পর বিচারপতিরা সন্তোষ প্রকাশ করায় সোমবার থেকে কাজ শুরুর সবুজ সংকেত মেলে।
আবেদন নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court Of India) নির্দেশে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। বিবেচনাধীন মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের মধ্যে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে অর্থাৎ ২৭ লক্ষ, তাঁদের যে কেউ ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। সশরীরে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়—ইসিআইনেট (ECI Net) মোবাইল অ্যাপ, কমিশনের ওয়েবসাইট কিংবা জেলা বা মহকুমা শাসকের দপ্তরের মাধ্যমেও আবেদন করা যাবে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম বাড়ি থেকেই কিছু আবেদনকারীর নথি পর্যালোচনা করে নিষ্পত্তি করেছেন। এখন ট্রাইবুনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।





